বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি নিয়ে অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে খাদ্যশস্য নিয়ে প্রথম জাহাজ ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ছাড়বে সোমবার। ’ গত ২২ জুলাই তুরস্ক ও জাতিসংঘের অংশগ্রহণে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শস্য রপ্তানির যে চুক্তি হয়েছে তারই ফল হিসেবে এ রপ্তানি শুরু হচ্ছে।
গতকাল রবিবার কানাল-৭ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন বলেন, ‘পরিকল্পনামাফিক সব কাজ যদি আজ সন্ধ্যায় শেষ হয় তবে খুবই উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে প্রথম জাহাজ আগামীকাল সকালে বন্দর ছাড়বে।
গতকাল রবিবার আংকারা জানিয়েছে, তুরস্ক ও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মধ্যে রপ্তানি পুনরায় শুরু করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তুরস্কের মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব পণ্য পরিবহন শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানির জন্য ইস্তাম্বুলে যৌথ সমন্বয় কেন্দ্রও খোলা হয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে যা গত বুধবার উদ্বোধন করা হয়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার এ চুক্তিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথম সুসংবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ যুদ্ধে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
গত শনিবার ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আলজাজিরা অনলাইন জানায়, বিদেশে রপ্তানির জন্য খাদ্যশস্যবোঝাই ১৬টি জাহাজ ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ছাড়তে যাচ্ছে। শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির কার্যালয় জানিয়েছে, জাহাজগুলোর প্রস্থান আসন্ন। শস্য রপ্তানি চুক্তির অংশ হিসেবে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে ২৫ মিলিয়ন টন শস্য পাঠানো হবে। শস্যবাহী এই জাহাজগুলোকে ইউক্রেন ছেড়ে যাওয়ার জন্য একটি নিরাপদ চ্যানেল তৈরি করা হয়েছে।
যুদ্ধে শস্য উৎপাদন অর্ধেকে নামতে পারে : যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে এ বছর শস্য উৎপাদন অর্ধেকে নামতে পারে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘চলতি বছরে ইউক্রেনের কৃষিব্যবস্থা হুমকির মুখে। ফলে উৎপাদন অর্ধেকে নামতে পারে। তিনি বলেন, রাশিয়ার আগ্রাসনের কারণে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই আমাদের লক্ষ্য হলো এ সংকট মোকাবেলা করা। ’
সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা